স্টাফ রিপোর্টার: কিশোরগঞ্জে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে হামলা থামাতে গিয়ে ছুরিকাঘাতে সুমন মিয়া (৪২) নামের এক কাঁচামাল ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সকাল ১১টার দিকে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার মারিয়া ইউনিয়নের বগাদিয়া পশ্চিমপাড়া এলাকায় এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

নিহত সুমন ওই এলাকার রহিম বাদশার ছেলে। তিনি স্থানীয় বড়বাজারে কাঁচামালের ব্যবসা করতেন।

এ ঘটনায় দুলাল মিয়া (৫০) নামে আরেকজন গুরুতর আহত হয়েছেন। তিনি ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আহত দুলাল মিয়া একই এলাকার বাসিন্দা ও সদর উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য।

ঘটনার পর পরই বিকাল ৩টার দিকে অভিযুক্ত রুবেল মিয়াকে (৩২) আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে এলাকাবাসী। রুবেল একই এলাকার সিরাজুল ইসলামের ছেলে।

স্থানীয়রা জানান, প্রায় ১০-১২ দিন আগে জমিজমা নিয়ে সিরাজুল ইসলামের সঙ্গে প্রতিবেশী দুলাল মিয়ার কথা কাটাকাটি হয়।

এই বিরোধের জেরে মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সকালে সিরাজুলের ছেলে রুবেল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে দুলাল মিয়ার ওপর হামলা চালায়। এ সময় বড়বাজারের ব্যবসায়ী সুমন পরিস্থিতি শান্ত করতে এবং দুলালকে বাঁচাতে এগিয়ে যান।

এতে ক্ষিপ্ত হয়ে রুবেল ব্যবসায়ী সুমনের ওপরেও হামলা চালায় এবং তার বুকে ছুরিকাঘাত করে। এ ঘটনায় সুমন ও দুলাল উভয়েই গুরুতর আহত হলে রক্তাক্ত অবস্থায় স্থানীয়রা তাঁদের উদ্ধার করে কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান।

সেখানে অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁদের ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন। দুপুর সোয়া ২টার দিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পৌঁছানোর পর চিকিৎসক সুমনকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত সুমনের ভাতিজা বুলবুল বলেন, চাচা খুব ভালো মানুষ ছিলেন। একজনের ওপর হামলা হচ্ছে দেখে তিনি শুধু থামাতে গিয়েছিলেন। হামলা থামাতে গিয়েই ওনাকে মরতে হলো। আমরা এই হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।

কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ আবুল কালাম ভূঞা বলেন, অভিযুক্ত রুবেলকে আটক করা হয়েছে। নিহতের মরদেহ বর্তমানে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরসহ পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।