স্টাফ রিপোর্টার: কিশোরগঞ্জে মোটরসাইকেলে জ্বালানি তেল নিতে ‘বিশেষ জ্বালানি কার্ড’ বাধ্যতামূলক করার পর জ্বালানি কার্ডের আবেদন জমা দেওয়ার হিড়িক পড়েছে।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) আবেদন জমা দেওয়া শুরু হওয়ার পর থেকে জেলার উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (ইউএনও) কার্যালয়গুলোতে ভিড় করে আবেদন জমা দিচ্ছেন মোটরসাইকেল ব্যবহারকারীরা।
আগামী শনিবার (৪ এপ্রিল) পর্যন্ত জ্বালানি কার্ডের আবেদন জমা দেওয়া ও সংগ্রহ করা যাবে। আগামী রবিবার (৫ এপ্রিল) থেকে এই কার্ড ছাড়া জ্বালানি তেল পাওয়া যাবে না।
জ্বালানি কার্ডের আবেদন জমা দেওয়ার জন্য বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সকাল থেকে মোটরসাইকেল ব্যবহারকারীরা ইউএনও অফিসগুলোতে ভিড় করেন।
এর মধ্যে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলায় সকাল থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত আবেদনকারীদের উপচেপড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।
স্থায়ী ঠিকানা অনুযায়ী নিজ নিজ উপজেলার উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (ইউএনও) কার্যালয়ে জ্বালানি কার্ডের আবেদন জমা দেওয়ার পর কার্ড দেওয়া হচ্ছে।
এর আগে মোটরসাইকেলে জ্বালানি তেল নিতে ‘বিশেষ জ্বালানি কার্ড’ বাধ্যতামূলক ঘোষণা করে বুধবার (১ এপ্রিল) বিকালে জেলা প্রশাসকের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে এক বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় জ্বালানি তেলের সরবরাহ ও বিপনন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে এবং জনদুর্ভোগ নিরসনের জন্য কিশোরগঞ্জ জেলার বৈধ মোটরসাইকেলে তেল পাওয়ার জন্য ‘বিশেষ জ্বালানি কার্ড’ প্রদানের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
এই অবস্থায় জেলাধীন মোটরসাইকেল চালকদের মূল জাতীয় পরিচয়পত্র, মোটরসাইকেলের রেজিস্ট্রেশন কার্ড, এক কপি স্ট্যাম্প সাইজের ছবি, ড্রাইভিং লাইসেন্স ও মোবাইল নম্বর দেখিয়ে নিজ নিজ স্থায়ী ঠিকানাধীন উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (ইউএনও) কার্যালয় হতে বিশেষ জ্বালানি কার্ড সংগ্রহ করতে অনুরোধ করা হলো।
বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, অন্য জেলার যারা চাকরি বা অন্য সূত্রে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলায় অবস্থান করছেন, তারা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ব্যবসা বাণিজ্য শাখা (রুম নং-২৩৬) থেকে কার্ড সংগ্রহ করতে পারবেন। এছাড়া যারা জেলার অন্য উপজেলায় অবস্থান করছেন, তারা সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে কার্ড সংগ্রহ করতে হবে।
আগামী ৪ এপ্রিলের মধ্যে মোটরসাইকেল মালিকদের আবশ্যিকভাবে এই ফুয়েল কার্ড সংগ্রহ করতে হবে। অন্যথায় ৫ এপ্রিল থেকে কিশোরগঞ্জ জেলার কোনো পেট্রোল পাম্প থেকে মোটরসাইকেলের জন্য জ্বালানি তেল সরবরাহ বা বিপণন করা হবে না।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো কারসাজির মাধ্যমে অতিরিক্ত জ্বালানি তেল কেনা ঠেকানো। সেই সাথে ফিলিং স্টেশনে ভিড় কমানো এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা আনা।
বিশেষ জ্বালানি কার্ড সম্পূর্ণ বিনা মূল্যে দেওয়া হবে। এই কার্ড ব্যবহার করে পাওয়া তেল কোনোভাবেই হস্তান্তর বা বিক্রয়যোগ্য নয়।