স্টাফ রিপোর্টার: বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম বলেছেন, কৃষকদের জন্য সরকারের সার ও বীজ প্রণোদনা কার্যক্রম সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে পরিচালিত হওয়া অত্যন্ত জরুরি। এই সহায়তা যেন রাজনৈতিক প্রভাব বা পক্ষপাতিত্বের ঊর্ধ্বে থাকে। যোগ্য কৃষকদের জন্য সঠিক প্রণোদনা নিশ্চিতে সরকারের দৃঢ় অবস্থান। প্রকৃত ও যোগ্য কৃষকদের সঠিকভাবে চিহ্নিত করে তাঁদের কাছে সময়মতো প্রণোদনা পৌঁছে দেওয়া নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সকলকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
শুক্রবার (৩ এপ্রিল) কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের আয়োজনে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের খরিপ-১ মৌসুমকে সামনে রেখে সার ও বীজ প্রণোদনা কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় মো. শরীফুল আলম এসব কথা বলেন।
সকালে কিশোরগঞ্জ জেলার কুলিয়ারচর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তন এবং বিকালে ভৈরব উপজেলা পরিষদ মিলনায়তন সার ও বীজ প্রণোদনা কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। এ সময় কৃষকদের পদচারণায় হয়ে অনুষ্ঠান ওঠে প্রাণবন্ত; যেন উৎসবের আবহে কৃষির জয়গান।
এ কর্মসূচির মাধ্যমে ভৈরব ও কুলিয়ারচরের সবুজ মাঠে যেন নতুন আশার বীজ বোনা হলো। কৃষির প্রাণস্পন্দনে মুখর এই জনপদে কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক জেলার দুটি উপজেলার কৃষকের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে পাটের বীজ, উফশী আউশ ধানের বীজ এবং প্রয়োজনীয় সার; যা তাদের স্বপ্ন বুননের নতুন প্রেরণা হয়ে উঠবে।
পাটের হারানো গৌরব পুনরুদ্ধার প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম বলেন, পাট শুধু একটি ফসল নয়, এটি আমাদের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও গৌরবের প্রতীক; যে কারণে একসময় একে ‘সোনালি আঁশ’ বলা হতো। দুঃখজনকভাবে, নানা কারণে সেই গৌরব আজ অনেকটাই স্তিমিত হয়ে পড়েছে, যেন সময়ের প্রবাহে হারিয়ে গিয়ে একপ্রকার স্থবিরতায় আটকে আছে। তবে সরকার দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে কাজ করছে; পাটকে তার যথাযথ মর্যাদায় পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করা, বিশ্ববাজারে নতুন করে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানে নিয়ে যাওয়া এবং ‘সোনালি আঁশ’-এর সেই স্বর্ণালী দিনগুলোকে আবারও ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কৃষকদের হাতে বীজ ও সার তুলে দিয়ে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন কিশোরগঞ্জ-৬ ( ভৈরব-কুলিয়ারচর) আসনের সংসদ সদস্য এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম।
জেলার কুলিয়ারচর উপজেলার মোট ১ হাজার আটশত কৃষক-কৃষাণীকে ৫কেজি উফশী আউশ ধানের বীজ, ১০ কেজি ডিএপি সার, ১০ কেজি এমওপি সার এবং ১ হাজার নয়শত দুইজনকে পাট বীজ বিতরণ করা হবে।
ভৈরব উপজেলাতেও উপস্থিত কৃষক-কৃষাণীর মাঝে ৫কেজি উফশী আউশ ধানের বীজ, ১০ কেজি ডিএপি সার, ১০ কেজি এমওপি সার এবং পাট বীজ বিতরণ করা হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, চলতি মৌসুমে আউশ ধান ও পাট চাষে গতি আনতে সরকারের প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় কুলিয়ারচর ও ভৈরব উপজেলার কৃষদের মাঝে সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে, যা কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে একটি তাৎপর্যপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
কুলিয়ারচর উপজেলার মধ্যে ১ হাজার ৮০০ কৃষককে জনপ্রতি ৫ কেজি আউশ ধানের বীজ, ১০ কেজি ডিএপি সার এবং ১০ কেজি এমওপি সার বিতরণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি ১ হাজার ৯০২ কৃষকের মাঝে জনপ্রতি ১ কেজি করে উন্নতমানের তোষা পাটের বীজ সরবরাহ করা হচ্ছে, যা পাটচাষে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে।
উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় কৃষি বিভাগের সমন্বিত উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের উপস্থিতি কর্মসূচির গুরুত্বকে আরও বাড়িয়ে তোলে।
উদ্বোধনী বক্তব্য শেষে প্রতিমন্ত্রী নিজ হাতে উপস্থিত কৃষকদের মাঝে এই কৃষি উপকরণ বিতরণ করেন, যা সরকারের কৃষিবান্ধব নীতির একটি দৃশ্যমান প্রতিফলন হিসেবে উপস্থিত সকলের কাছে বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়।
এর আগে প্রতিমন্ত্রী এলাকার জনদুর্ভোগ লাঘবে গৃহীত উদ্যোগের অগ্রগতি সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করতে কুলিয়ারচর উপজেলার কালী নদীতে চলমান কচুরিপানা অপসারণ কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। নৌ-যোগাযোগকে আরও নির্বিঘ্ন ও গতিশীল রাখতে তিনি কুলিয়ারচর বাজার লঞ্চঘাট এলাকার সার্বিক অবস্থা গভীর মনোযোগের সাথে পর্যালোচনা করেন এবং সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
তিনি পাশাপাশি কুলিয়ারচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। এসব সভায় তিনি স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন, সেবাপ্রদান প্রক্রিয়াকে আরও আধুনিক ও কার্যকর করার লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ মতামত ও দিকনির্দেশনা প্রদান করেন, যা সংশ্লিষ্টদের মাঝে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করে।
কিশোরগঞ্জের ভৈরব ও কুলিয়ারচর উপজেলা সফর শেষে সাফল্যমণ্ডিত কর্মসূচি সম্পন্ন করে ভৈরব থেকে সড়কপথ অতিক্রম করে ঢাকার উত্তরায় অবস্থিত নিজ বাসভবনের উদ্দেশে রওয়ানা হন।