বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ১১:১৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলামের ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে নিয়োগ পেলেন মোশারফ হোসেন কিশোরগঞ্জে কৃষকের জমির ধান কেটে বোরো উৎসবের উদ্বোধন করলেন জেলা প্রশাসক করিমগঞ্জে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মেলা: নজর কেড়েছে খুদে বিজ্ঞানীদের তাক লাগানো উদ্ভাবন দু:খ নদীটার দিনকাল গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে কিশোরগঞ্জে ১১ দলের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ কিশোরগঞ্জে ১১ দলের সপ্তাহব্যাপী লিফলেট বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন সংবাদ প্রকাশের জেরে মামলা: জামিনে মুক্তি পেলেন সাংবাদিক খায়রুল নম্বরবিহীন মোটরসাইকেলে তেল নিতে গিয়ে ইউএনও’র কাছে ধরা খেলেন কারারক্ষী পাকুন্দিয়ায় ইয়াবা ও দেশীয় অস্ত্রসহ আটক ২ কিশোরগঞ্জে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ক্রীড়া দিবস উদযাপিত

তক্ষশিলা: ইতিহাস, প্রত্নতত্ত্ব, আবেগের মিলন

  • আপডেট সময় : মঙ্গলবার, ১০ মার্চ, ২০২৬, ১:৩৭ অপরাহ্ণ

ড. মাহফুজ পারভেজ, তক্ষশিলা থেকে ফিরে: ইসলামাবাদের শীতল সকাল ধীরে ধীরে আলো ছড়াচ্ছে মারগালা পাহাড়ের কিনারা ছুঁয়ে আকাশের প্রান্তে। দূরের শৈল শহর মারী‘র মখমল-কোমল বাতাস পাকিস্তানের পরিকল্পিত, বৃক্ষ ও পুষ্প বেষ্টি রাজধানী শহরকে ভূমধ্যসাগরীয় নাতিশীতোষ্ণ চিরবসন্তরে আমেজে ভরপুর করে রেখেছে। ছবির মতো ইসলামাবাদ নয়, আসল পাকিস্তান লাহোর, করাচি, কোয়েটার ভিড়ে, দারিদ্র্যে এবং আফগানিস্তানের সঙ্গে পশ্চিমের সীমান্তের সংঘাত ও রক্তপাতে মিশে আছে।

হোটেল রামাদা থেকে রাজধানীর ছকবদ্ধ আধুনিক প্রশাসনিক স্থাপনা পেছনে ফেলে গাড়ি যখন উত্তরের দিকে এগোতে শুরু করল, তখন মনে হচ্ছিল আমরা কেবল একটি ভৌগোলিক স্থানের দিকে নয়, বরং সময়ের ভেতর দিয়ে পিছিয়ে যাচ্ছি। ইসলামবাদের দক্ষিণে পাঞ্জাব। উত্তরে খায়বার পাখতুনখোয়া। অনতিদূরে গিলগিট-বাল্টিস্তান এবং আজাদ কাশ্মীর।

শহরের তিন দিকে মারগালা পাহাড় আর আরেক দিকে টুইন সিটি রাওয়ালপিন্ডি। পিন্ডির গা ঘেঁষে এগুতেই পাহাড়ি পথ। প্রায় চল্লিশ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত প্রাচীন নগরী Taxila বা তক্ষশিলা—যেখানে একসময় জ্ঞানের আলো জ্বালিয়েছিল এশিয়ার অন্যতম প্রাচীন বিদ্যাপীঠ। জায়গাটি পাঞ্জাব প্রদেশ আর খায়বারের সন্ধিস্থলে।

যাত্রার সূচনা

৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬। ঢাকা থেকে দুবাই হয়ে ইসলামাবাদ রওয়ানা হই। টিকেট করার সময় ঢাকা-কারাচি ফ্লাইট চালু হয় নি। আমাদের আসতে হয়েছে ফ্লাই দুবাই বিমানে। রওয়ানা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমার হৃদয় ভারাক্রান্ত—দিনটি আমার একমাত্র ছোটভাই মাসুদ জিয়াউল হকের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী। ২০২৫ সালে সে আমাদের জীবনের মধ্য থেকে অপ্রত্যাশিতভাবে বিদায় নিয়েছে। মাসুদ বাংলাদেশের প্রথম প্রত্নতাত্ত্বিক উচ্চশিক্ষার ছাত্র ছিলেন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের প্রথম ব্যাচের ছাত্র, যার কৌতূহল ও নিষ্ঠা প্রত্নতত্ত্বে ও ইতিহাসে ছিল অনন্য।

কিশোর বয়সে আমাদের পারিবারিক লাইব্রেরি, কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাবলিক লাইব্রেরি—সর্বত্র মাসুদ ছিল নিঃশেষ বইপোকা। ইতিহাস, সংস্কৃতি, প্রত্নতত্ত্ব—প্রতিটি বই তাকে অন্য এক জগতে নিয়ে যেত। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসনে ভর্তি হলেও, তার মন সবসময় প্রত্নতত্ত্বের টানে মশহুল ছিল। সে তাই চলে এসেছিল সদ্য প্রতিষ্ঠিত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের প্রথম ব্যাচের ছাত্র হয়ে পড়তে। আমিও যেহেতু জাহাঙ্গীরনগরের ছাত্র, প্রথমে ইতিহাসে ও পরে সরকার ও রাজনীতির, তাই খুশিই হয়েছিলাম। গল্পচ্ছলে সে আমাকে প্রথম বলেছিল তক্ষশিলার ইতিহাস ও ঐতিহ্য, গান্ধারা, হরপ্পা ও মহেঞ্জোদারোর নিদর্শনসমূহ। সশরীরে তক্ষশিলায় পৌঁছে মাসুদের মুখ ভেসে আসছিল বার বার।

তক্ষশিলার প্রত্নতত্ত্ব ও শিক্ষা

ইসলামাবাদে ন্যাশানাল ডিফেন্স ইউনিভার্সিটির কয়েক দিনের ওয়ার্কশপের কাজ শেষ করে আমি ১৬ ফেব্রুয়ারি রওয়ানা দিই ভায়বার পাখতুনখোয়ার হরিপুরের পাক-অস্ট্রিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে, যেখানে আমার লেকচার দেওয়ার আমন্ত্রণ রয়েছে। পথিমধ্যে তক্ষশিলায় পৌঁছাই সকালের দিকে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রটোকল অফিসার গাড়িতে আশেপাশের জায়গার বর্ননা দিদে দিতে সঙ্গে চলেছেন। তক্ষশিলায় এসে প্রথম চোখে পড়ে ভীর মাউন্ড, সিরকাপ, সিরসুখ—ধূসর মাটির স্তূপ, গ্রীক-ভারতীয় শিল্পের নিদর্শন, বৌদ্ধ স্তূপ ও ধাতব শিল্পকর্ম। বারবার মনে পড়ছে মাসুদের কথা—সে এখানে থাকলে কত খুশি হতো।

ভীর মাউন্ড প্রাচীনতম শহর, প্রাথমিক বাসস্থান, বাণিজ্য ও প্রশাসনিক নিদর্শনের আবিষ্কার। সিরকাপ গ্রিক নগর পরিকল্পনা ও স্থাপত্যশৈলীর প্রভাব স্পষ্ট। সিরসুখ কুশান যুগের নগর, যেখানে শিল্প, বাণিজ্য ও শিক্ষা সব মিলিত। প্রাজীন ভারত তথা দক্ষিণ এশিয়ার প্রবেশদ্বারে নানা সভ্যতা ও সংস্কৃতির মিলনস্থল ছিল এই জায়গা। সাংস্কৃতিক বিভা ও ঐক্যের বর্ণময় প্রকাশ ঘটেছিল এখানে সুপ্রাচীনকালে।

প্রধান আবিষ্কারগুলো

তক্ষশিলা কেবল একটি শহর ছিল না; এটি ছিল একটি জ্ঞান-বিস্তারকারী সভ্যতা। খ্রিস্টপূর্ব পঞ্চম শতাব্দী থেকেই এখানে নানা আচার্য ও শিক্ষকের আশ্রমে শিক্ষা গ্রহণ করতে আসত উপমহাদেশ ও মধ্য এশিয়ার ছাত্ররা। রাজনীতি, দর্শন, চিকিৎসাশাস্ত্র, সামরিক কৌশল—জ্ঞানচর্চার এমন কোনো শাখা ছিল না, যা এখানে আলোচিত হতো না। ইতিহাস বলে, মৌর্য সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যি Chandragupta Maurya-ও নাকি এই নগরীর শিক্ষালয়ে শিক্ষাগ্রহণ করেছিলেন।

প্রত্নতাত্ত্বিক ধ্বংসাবশেষের মাঝে হাঁটতে হাঁটতে মনে হয়—একসময় এখানে নিশ্চয়ই ছিল প্রাণবন্ত ছাত্রজীবন। আজ যেখানে ভাঙা ইটের দেয়াল, সেখানে হয়তো কোনো শিক্ষক রাষ্ট্রনীতির জটিল তত্ত্ব ব্যাখ্যা করতেন। যেখানে এখন নীরবতা, সেখানে হয়তো ছাত্রদের বিতর্কে মুখর থাকত পরিবেশ।

তক্ষশিলার বিস্তীর্ণ প্রত্নস্থলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন হলো ধর্মরাজিকা স্তূপ, যা বৌদ্ধ ধর্মের বিস্তারের এক স্মারক। সম্রাট Ashoka-এর সময় বৌদ্ধ ধর্ম এখানে বিশেষভাবে বিকশিত হয়েছিল। এই অঞ্চলের বহু মঠ ও স্তূপ সেই ঐতিহাসিক অধ্যায়ের সাক্ষ্য বহন করছে।

বর্তমানে এই প্রত্নস্থলকে বিশ্ব ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে ইউনেস্কো। তবে বাস্তবে দাঁড়িয়ে মনে হয়—এই ধ্বংসস্তূপ কেবল প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন নয়, বরং এক হারিয়ে যাওয়া জ্ঞানসভ্যতার নীরব স্মৃতি।দ্ধ স্তূপ ও মঠ: ভীর ও সিরকাপে শিক্ষা ও ধর্মের কেন্দ্র।

গান্ধারা, সিন্ধু সভ্যতা ও বৈদিক সংযোগ

মাসুদের শেখানো গল্পগুলো মনে পড়ে। গান্ধারা, হরপ্পা ও মহেঞ্জোদারো—তিনটি সভ্যতার মধ্যেকার সংযোগ ও পার্থক্য। হরপ্পা ও মহেঞ্জোদারো: ব্রোঞ্জ যুগের নগর পরিকল্পনা, উন্নত স্যানিটেশন, পরিকল্পিত রাস্তা। আর তক্ষশিলা ছিল শিক্ষা ও জ্ঞানচর্চার নগর, যেখানে বৈদিক শিক্ষার ধারাবাহিকতা ও বৌদ্ধ দর্শনের বিকাশ। গন্ধার শিল্প: ধূসর পাথরের খোদাই, ধাতব শিল্প, মুখাবয়বের বাস্তবধর্মী অভিব্যক্তি আর তক্ষশিলায় বিদ্যাবত্তার প্রকাশ ছিল। নগর পরিকল্পনায় ছিল গ্রিড প্যাটার্ন, জলবাহিনী, স্যানিটেশন, আবাসন। এখানকার বাণিজ্য ও অর্থনীতি ছিল সমৃদ্ধ। কুশান যুগের মুদ্রা ও বাণিজ্য নিদর্শন রয়েছে তক্ষশিলায়। পাণ্ডুলিপি ও লিপিতে বেদ, বৌদ্ধ শিক্ষা ও নৈতিক দর্শনের প্রমাণ পাওয়া যায়। গান্ধারা ছিল গ্রিক-ভারতীয় শিল্প ও বৌদ্ধ শিল্পের মিলন, আন্তর্জাতিক সংযোগের প্রমাণ।

মাসুদ এই ইতিহাসকে শুধু পড়ে নি সে অনুভব করত। সে প্রত্নতত্ত্বকে তার জীবনের অংশ হিসেবে দেখত, প্রতিটি নিদর্শনে সে খুঁজত মানবিক ও সাংস্কৃতিক গল্প।

মানবিক স্মৃতি ও আবেগ

তক্ষশিলার ধ্বংসস্তূপের মধ্য দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে আমার চোখে বারবার মাসুদের ছবি ভেসে উঠছে। সে যদি এখানে থাকত, কত আনন্দিত হতো! সে যে স্বপ্ন দেখেছিল, তার অনেকটাই অসমাপ্ত থেকে গেল। তার কৌতূহল, নিষ্ঠা, জ্ঞানচর্চার আগ্রহ—সব মিলিয়ে আজ আমার চোখের সামনে প্রাচীন তক্ষশিলার স্মৃতির সঙ্গে মিশে বাতাসে ভেসে চলেছে।

উত্তর পাকিস্তানের পাহাড়ি আকাশের নিচে বাতাসে যেন হাহাকার ভেসে এসেছে—এটি শুধু ইতিহাসের নয়, আমার ভাইয়ের অসমাপ্ত জীবন, তার প্রত্নতত্ত্বপ্রেম ও মানবিক আবেগের সাক্ষী। ধ্বংসস্তূপ, স্তূপ, প্রত্নধাতু—সবকিছু যেন বলে: “মাসুদ এখানে আছে, তুমি তাকে খুঁজে পাবে তার স্মৃতির মধ্য দিয়ে।” জ্ঞানচর্চার মহত্তম ব্রতে তক্ষশিলা যেভাবে টিকে আছে ইতিহাস ও ঐতিহ্যের পাওয়ায়, মানুষও থেকে যায় জ্ঞান পিপাসার অতলান্ত সাগরে।

প্রত্নতত্ত্বের রাজনৈতিক ও আন্তর্জাতিকতা

অনেকের কাছে পরিচিত তক্ষশিলা নামটি আসলে কেবল একটি প্রাচীন শহর নয়; এটি আন্তর্জাতিক শিক্ষার ও বাণিজ্যের সংযোগস্থল। প্রাচীন সিল্করুটের পূর্বসূরি বাণিজ্যপথে মধ্য এশিয়া, ভারত ও চীনের মধ্যে যোগাযোগের কেন্দ্র ছিল নগরীটি। গ্রীক ও ভারতীয় শিল্পের মিলন প্রমাণ করে কুশান যুগের এখানকার আন্তর্জাতিক সংযোগ। আধুনিক প্রেক্ষাপটে এটি মনে করিয়ে দেয়, যেমন চীনের Belt and Road Initiative—প্রাচীন সংযোগের ধারাবাহিকতা আজও গুরুত্বপূর্ণ।

তক্ষশিলা আমার কাছে শুধু ভ্রমণের স্থান নয়। এটি একটি মানবিক, বৌদ্ধিক ও আবেগপূর্ণ অভিজ্ঞতা, যেখানে প্রাচীন ইতিহাস, শিল্প, শিক্ষা এবং মানবিক স্মৃতি একসাথে মিশে গেছে। প্রাচীন স্তূপ, বৌদ্ধ নিদর্শন, গ্রীক-ভারতীয় শিল্প—সবকিছু যেন একসাথে আমাকে মনে করিয়ে দিচ্ছে: জ্ঞান, শিক্ষা এবং মানবিক আবেগ—এগুলোই সভ্যতার সত্যিকারের শক্তি।

আমার চোখে ইতিহাস জীবন্ত, আমার হৃদয়ে মাসুদের স্মৃতি অমর। আমি জানি—মাসুদ এই বাতাসে, এই স্তূপে, এই নিঃশব্দ ইতিহাসে বেঁচে আছে, যেন চিরন্তন সাক্ষী।

তক্ষশিলাকে বিশ্বের প্রাচীনতম উচ্চশিক্ষা কেন্দ্রগুলোর একটি হিসেবে ধরা হয়। খ্রিস্টপূর্ব প্রায় ৫ম শতাব্দী থেকে এখানে শিক্ষা কার্যক্রম চলত। এটি আধুনিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো কেন্দ্রীভূত প্রতিষ্ঠান না হলেও বিভিন্ন আচার্য ও গুরুর আশ্রমে উচ্চতর শিক্ষা দেওয়া হতো। এখানে যে বিষয়গুলো পড়ানো হতো তার মধ্যে ছিল দর্শন, রাজনীতি ও রাষ্ট্রবিজ্ঞান, চিকিৎসাশাস্ত্র, গণিত, জ্যোতির্বিজ্ঞান, সামরিক কৌশল, ভাষা ও ব্যাকরণ।

এখানে ছিলেন ইতিহাসখ্যাত বহু বিখ্যাত পণ্ডিত ও শিক্ষার্থী। তক্ষশিলার সঙ্গে অনেক ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বের নাম জড়িত। যেমন, কৌটিল্য বা বার্ণক্য, যিনি অর্থনীতি, কূটনীতি ও রাষ্ট্রনীতি গ্রন্থ অর্থশাস্ত্র-এর রচয়িতা। চন্দ্রগুপ্ত, যিনি মগধের মৌর্য সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা। পাণিনী, সংস্কৃত ব্যাকরণের অমর গ্রন্থ Ashtadhyayi-এর রচয়িতা। চারক, যিনি আয়ুর্বেদের বিখ্যাত চিকিৎসক।

তক্ষশিলার রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ইতিহাস অপূর্ব। কারণ তক্ষশিলা বহু সাম্রাজ্যের অধীনে ছিল। যেমন, Cyrus the Great-এর পারস্য সাম্রাজ্য, Alexander the Great-এর আক্রমণ (খ্রিস্টপূর্ব ৩২৬), আশোকের শাসনামলে বৌদ্ধধর্মের বিস্তার এবং পরে কুষাণ ও অন্যান্য রাজবংশের শাসন। শেষ পর্যন্ত এই অঞ্চলটি বৌদ্ধ শিক্ষা ও সংস্কৃতির বড় কেন্দ্র হয়ে ওঠে।

তক্ষশিলায় বহু গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নস্থল পাওয়া গেছে, যেমন: ধর্মরাজিকা স্তূপ, সিরকাপ নগর, জৌলিয়ান বৌদ্ধ মঠ। ১৯৮০ সালে UNESCO তক্ষশিলাকে বিশ্ব ঐতিহ্য স্থান (World Heritage Site) হিসেবে ঘোষণা করে।

৫ম শতাব্দীর দিকে Mihirakula-এর হুন আক্রমণ এবং রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে তক্ষশিলার শিক্ষা ও নগরসভ্যতা ধীরে ধীরে ধ্বংস হয়ে যায়।

তক্ষশিলা ছিল প্রাচীন উপমহাদেশের একটি আন্তর্জাতিক শিক্ষানগর, যেখানে ভারত, মধ্য এশিয়া ও অন্যান্য অঞ্চল থেকে শিক্ষার্থীরা এসে পড়াশোনা করত। এটি নালন্দার আগের একটি গুরুত্বপূর্ণ জ্ঞানকেন্দ্র হিসাবে সুপ্রসিদ্ধ ছিল।

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
© All rights reserved © 2025 kishoreganjnews
Customized By Ayaz Host