স্টাফ রিপোর্টার: কিশোরগঞ্জে মোটরসাইকেলে জ্বালানি তেল নিতে এখন থেকে জেলা প্রশাসকের সিল ও স্বাক্ষরযুক্ত ‘বিশেষ জ্বালানি কার্ড’ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। আগামী ৫ এপ্রিল থেকে এই কার্ড ছাড়া জ্বালানি তেল পাওয়া যাবে না।
এর আগেই জেলা প্রশাসকের কার্যালয় অথবা স্থায়ী ঠিকানা অনুযায়ী নিজ নিজ উপজেলার উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (ইউএনও) কার্যালয় থেকে এই কার্ড সংগ্রহ করতে হবে।
বুধবার (১ এপ্রিল) সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আসলাম মোল্লা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে বিকালে জেলা প্রশাসকের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় জ্বালানি তেলের সরবরাহ ও বিপনন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে এবং জনদুর্ভোগ নিরসনের জন্য কিশোরগঞ্জ জেলার বৈধ মোটরসাইকেলে তেল পাওয়ার জন্য ‘বিশেষ জ্বালানি কার্ড’ প্রদানের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
এই অবস্থায় জেলাধীন মোটরসাইকেল চালকদের মূল জাতীয় পরিচয়পত্র, মোটরসাইকেলের রেজিস্ট্রেশন কার্ড, এক কপি স্ট্যাম্প সাইজের ছবি, ড্রাইভিং লাইসেন্স ও মোবাইল নম্বর দেখিয়ে নিজ নিজ স্থায়ী ঠিকানাধীন উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (ইউএনও) কার্যালয় হতে বিশেষ জ্বালানি কার্ড সংগ্রহ করতে অনুরোধ করা হলো।
বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, অন্য জেলার যারা চাকরি বা অন্য সূত্রে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলায় অবস্থান করছেন, তারা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ব্যবসা বাণিজ্য শাখা (রুম নং-২৩৬) থেকে কার্ড সংগ্রহ করতে পারবেন। এছাড়া যারা জেলার অন্য উপজেলায় অবস্থান করছেন, তারা সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে কার্ড সংগ্রহ করতে হবে।
আগামী ৪ এপ্রিলের মধ্যে মোটরসাইকেল মালিকদের আবশ্যিকভাবে এই ফুয়েল কার্ড সংগ্রহ করতে হবে। অন্যথায় ৫ এপ্রিল থেকে কিশোরগঞ্জ জেলার কোনো পেট্রোল পাম্প থেকে মোটরসাইকেলের জন্য জ্বালানি তেল সরবরাহ বা বিপণন করা হবে না।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো কারসাজির মাধ্যমে অতিরিক্ত জ্বালানি তেল কেনা ঠেকানো। সেই সাথে ফিলিং স্টেশনে ভিড় কমানো এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা আনা।
বিশেষ জ্বালানি কার্ড সম্পূর্ণ বিনা মূল্যে দেওয়া হবে। এই কার্ড ব্যবহার করে পাওয়া তেল কোনোভাবেই হস্তান্তর বা বিক্রয়যোগ্য নয়।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আসলাম মোল্লা জানান, পেট্রোল ও অকটেনের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার স্বার্থে মোটরসাইকেল মালিক ও চালকদের জন্যই এই ‘বিশেষ জ্বালানি কার্ড’ চালু করা হচ্ছে। জাতীয় পরিচয়পত্র, ড্রাইভিং লাইসেন্স ও গাড়ির নিবন্ধনের এক সেট ফটোকপি এবং এক কপি ছবি জমা দিলে তারা বিনামূল্যে এই কার্ড পাবেন।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) থেকে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে কাগজপত্র জমা দিয়ে কার্ড সংগ্রহ করা যাবে।
এদিকে প্লাস্টিক বোতল বা ড্রামসহ কোনো কনটেইনারে জ্বালানি তেল বিক্রি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। অনুমোদিত ফিলিং স্টেশন ছাড়া খোলাবাজারে জ্বালানি তেলের ক্রয়-বিক্রয়ও বন্ধ থাকবে। নির্দেশনা অমান্য করলে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
নতুন এই সিদ্ধান্তের খবরে বুধবার (১ এপ্রিল) রাত থেকেই জেলার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে মোটরসাইকেল চালকদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।