স্টাফ রিপোর্টার: কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে জমি নিয়ে দুইপক্ষের মারামারি, হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনার সংবাদ প্রকাশের জের ধরে প্রভাবশালী একটি পক্ষের রোষানলে পড়ে চুরি ও হত্যাচেষ্টা মামলায় এক মাস কারাভোগের পর জামিনে মুক্তি পেয়েছেন সাংবাদিক খায়রুল ইসলাম ফকির (৪০)।
বুধবার (৮ এপ্রিল) কিশোরগঞ্জের জিআর আদালত নং-৩ এর বিচারক সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম বুলবুল শুনানি শেষে তার জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন।
পরে সন্ধ্যার আগে তিনি কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগার থেকে মুক্তি পান।
সাংবাদিক খায়রুল ইসলাম ফকিরের আইনজীবী এম এনামুল হক বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
সাংবাদিক খায়রুল ইসলাম ফকির হোসেনপুর উপজেলার গোবিন্দপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ গোবিন্দপুর গ্রামের মৃত নূরু মিয়ার ছেলে। তিনি একটি স্থানীয় দৈনিক ও অনলাইন নিউজপোর্টাল ‘নয়া সংবাদ’ এর হোসেনপুর উপজেলা প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত।
প্রসঙ্গত, হোসেনপুর উপজেলার দক্ষিণ গোবিন্দপুর গ্রামের মৃত আব্দুল হামিদের ছেলে পোল্যান্ড প্রবাসী আসাদুজ্জামান কিরণের সঙ্গে একই গ্রামের নজরুল ইসলামের জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছে।
এই বিরোধের জের ধরে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যার পরে আসাদুজ্জামান কিরণ ও নজরুল ইসলামের পক্ষের মধ্যে মারামারি হয়। এছাড়া উভয়পক্ষের মধ্যে হামলা-পাল্টা হামলা ও বাড়িঘর ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
একই গ্রামের বাসিন্দা সাংবাদিক খায়রুল ইসলাম ফকির অনলাইন নিউজ পোর্টালে এ ঘটনার সংবাদ প্রকাশ করেন। সংবাদ প্রকাশের পর পর ওইদিনই সকালে আরো বেশ কয়েকজন সাংবাদিক ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান এবং ঘটনার সংবাদ প্রকাশ করেন। এতে খায়রুল ইসলাম ফকিরের উপর ক্ষিপ্ত হন আসাদুজ্জামান কিরণ।
এই ঘটনায় গত ২ মার্চ হোসেনপুর থানায় নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে কিরণসহ ৮জনের নামে মামলা করেন। এর তিন দিন পর গত ৫ মার্চ কিরণের পক্ষে পাল্টা মামলা করা হয়। কিরণের বোন আনুরা (৫৩) বাদী হয়ে হোসেনপুর থানায় ভাঙচুর, লুটপাট, মারামারিসহ চুরির অভিযোগ এনে মামলাটি দায়ের করেন। এই মামলায় প্রধান আসামি করা হয় সাংবাদিক খায়রুল ইসলাম ফকিরকে।
এ নিয়ে কিশোরগঞ্জ নিউজ এ গত ১ এপ্রিল সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়।