কিশোরগঞ্জের হাওরের মাঠে মাঠে এখন কৃষকের ব্যস্ততা। বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠে ভোর থেকে সন্ধ্যা অবধি কোলাহল। হাওরের একমাত্র বোরো ফসল আবাদকে ঘিরে এই প্রাণচাঞ্চল্য। তীব্র শীত উপেক্ষা করে কৃষক ব্যস্ত বোরো আবাদে।
এই সময়ে আকাশের সাদা মেঘের সাথে পাল্লা দিয়ে উড়াউড়ি করে ধবল বক। মেহমান হয়ে এসেছে পরিযায়ী পাখি। তাদের কলরবে এখন মুখরিত হাওরের বিস্তীর্ণ জনপদ।
ধানক্ষেতের ফাঁকে ফাঁকে কোড়া পাখির ‘টুব টুব’ ডাক, ধ্যানমগ্ন ঋষির মতো দাঁড়িয়ে থাকা বক। বালিহাঁসের উড়াউড়ি। কালিম, জলপিপি, ডাহুক, পানকৌড়ি দেখে মনে পুলক লাগে।
সন্ধ্যায় দলবেঁধে চারপাশ মুখরিত করে পাখিরা যখন ঘরে ফিরে যায়, সে এক দেখার মতো দৃশ্য।
অজস্র পাখির এই মেলা এখন দেখা যায় হাওর উপজেলা ইটনা, মিঠামইন, অষ্টগ্রাম ও নিকলীর বিভিন্ন এলাকায়। শীতের পুরোটা সময় এমন দৃশ্য হাওরপাড়ের মানুষদের অভিভূত করে রাখে।
স্থানীয়রা জানান, নভেম্বরের মাঝামাঝি সময় থেকে শীতের পাখিরা তাদের কলরবে হাওরকে মুখরিত করা শুরু করে। পুরো শীত মৌসুমে হাজার হাজার পাখি হাওরের বিল-ঝিল আর বিস্তীর্ণ মাঠকে তাদের অভয়াশ্রম হিসেবে ব্যবহার করে থাকে।