বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:১১ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
কিশোরগঞ্জে কৃষকের জমির ধান কেটে বোরো উৎসবের উদ্বোধন করলেন জেলা প্রশাসক করিমগঞ্জে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মেলা: নজর কেড়েছে খুদে বিজ্ঞানীদের তাক লাগানো উদ্ভাবন দু:খ নদীটার দিনকাল গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে কিশোরগঞ্জে ১১ দলের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ কিশোরগঞ্জে ১১ দলের সপ্তাহব্যাপী লিফলেট বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন সংবাদ প্রকাশের জেরে মামলা: জামিনে মুক্তি পেলেন সাংবাদিক খায়রুল নম্বরবিহীন মোটরসাইকেলে তেল নিতে গিয়ে ইউএনও’র কাছে ধরা খেলেন কারারক্ষী পাকুন্দিয়ায় ইয়াবা ও দেশীয় অস্ত্রসহ আটক ২ কিশোরগঞ্জে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ক্রীড়া দিবস উদযাপিত পাকুন্দিয়ায় ইয়াবাসহ আটক যুবকের জেল-জরিমানা

তাল ও ছন্দে মুগ্ধতা ছড়াচ্ছেন বিলাস

  • আপডেট সময় : বুধবার, ১৪ জানুয়ারী, ২০২৬, ৭:২৬ অপরাহ্ণ

স্টাফ রিপোর্টার: সঙ্গীতাঙ্গণে এ সময়ের সম্ভাবনাময় তরুণ যন্ত্রসঙ্গীত শিল্পী বিলাস চন্দ্র বনিক। অক্টোপ্যাড বাদক হিসেবে তিনি এরই মধ্যে যথেষ্ঠ কুশলতার পরিচয় দিয়েছেন। বাংলাদেশের একজন খ্যাতিমান ও প্রতিভাবান পারকাশন শিল্পী (অক্টোপ্যাড ড্রামস বাদক) হিসেবে তিনি তাল ও ছন্দের আকাশে সৌরভ ছড়াচ্ছেন।

বিলাস চন্দ্র বনিক বাংলাদেশ টেলিভিশনের একজন তালিকাভুক্ত যন্ত্রশিল্পী। টেলিভিশন ও মঞ্চের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বাজানো তার অক্টোপ্যাডের ছন্দ নজর কাড়ছে সবার। স্বপ্ন তার একজন প্রতিষ্ঠিত রিদমার হওয়ার। পাশাপাশি হতে চান একজন ভালো মানুষ। পরিশ্রম আর একাগ্রতার মাধ্যমে সেই চেষ্টাই করে চলেছেন বিলাস চন্দ্র বনিক।

সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে জন্ম ও বেড়ে ওঠা বিলাস চন্দ্র বনিকের হাতেখড়ি তবলায় ‘তে রে কে টে’ বোল বাদনের মাধ্যমে। প্রাতিষ্ঠানিক ও একাডেমিক তবলা শিক্ষা নেন কিশোরগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে। এছাড়া বুলবুল একাডেমি অব ফাইন আর্টস (বাফায়) এ প্রশিক্ষণ নিয়েছেন বিলাস।

পরে ড্রামস ও অক্টোপ্যাড বাজানো রপ্ত করেন বিশিষ্ট রিদম প্রোগ্রামার ও খ্যাতিমান অক্টোপ্যাড বাদক বিদ্যুৎ রায়ের কাছে। তিনি অত্যন্ত স্নেহ, ভালবাসা ও নির্দেশনা দিয়ে নিজের সন্তানের মত তাকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পথ প্রদর্শক হিসেবে ভূমিকা রেখে চলেছেন। এছাড়া বাংলাদেশ টেলিভিশনের সংগীত পরিচালক সুমন রেজা খান বিশেষ স্নেহে তাকে অনুপ্রাণিত করে চলেছেন।

অন্যদিকে মানস গুরু হিসেবে বিলাস চন্দ্র বনিক অন্তরে ধারণ করে পথ চলছেন এ দেশের প্রখ্যাত তবলা বাদক মিলন ভট্টার্চায, দেবু চৌধুরী, পল্লব স্যান্নাল, রবীন্দ্রনাথ পাল, বিশ্বজিত সরকার এবং ড্রামস ও অক্টোপ্যাড বাদক লিটন ডি কস্তা, মানিক আহমেদ, পলাশ শাও, পিয়ারু খানসহ অরো অনেককেই।

অল্প সময়ের ব্যবধানে নিজ এলাকার গণ্ডি পেরিয়ে রাজধানী ঢাকার শিল্পকলা একাডেমি, বাংলা একাডেমি, শিশু একাডেমি, কচিকাঁচার আসর মিলনায়তন, জাতীয় জাদুঘর মিলনায়তন, টিএসসি, চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র, ঢাকা সেনানিবাসের গলফ ক্লাব, পাঁচ তারকা অভিজাত হোটেল শেরাটনের বলরুমসহ নিয়মিত বিভিন্ন মঞ্চে এবং বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বেসরকারি বিভিন্ন টিভি চ্যানেলের লাইভ অনুষ্ঠানে বাজানোর সুযোগও তিনি এরই মধ্যে পেয়েছেন।

বিশিষ্ঠ কন্ঠশিল্পী আবদুল জব্বার, খুরশিদ আলম, তিমির নন্দী, ফকির সাহাবুদ্দিন, দিলরুবা খান, শফি মণ্ডল, রবী চৌধুরী, সেলিম চৌধুরী, রক্সি, শেখ জসিম, মেহেরীন, সৈয়দ মোহাম্মদ মুসা, শাওন চৌধুরী, বদরুননেসা ডালিয়া, মুক্তি রহমান, এটিএন তারকা রেজওয়ান, কোজআপ ওয়ান নোলক বাবু, সোনিয়া, রিংকু, মেহেরাব, বিউটি, সাব্বির জামান, সেরাকণ্ঠ আশিক, চম্পা বনিক, মনির বাউলা, সানজিদা, রুপসা, আসাদুজ্জামান মাটি, ক্ষুদে গানরাজ পুষ্পিতা, সারেগামাপা’র অংকন এবং বৌশাখী ঘোষাল ছাড়াও আরো অনেকের সাথে তিনি অক্টোপ্যাড বাজিয়ে প্রশংসা কুড়িয়েছেন।

বিলাস চন্দ্র বনিক বর্তমানে রাজধানী ঢাকার ফার্মগেট এলাকার পূর্ব রাজা বাজারে বসবাস করেন। জন্ম তার কিশোরগঞ্জ জেলার নিকলী উপজেলার বানিয়াহাটি গ্রামে। লেখাপড়া করেছেন নিজ গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয় ছাড়াও কিশোরগঞ্জ শহরের স্কুল-কলেজে। বড় ভাইয়ের ব্যবসার সুবাদে একটা বড় সময় কাটিয়েছেন কুলিয়ারচরে। সেখানে শিল্প-সংস্কৃতির চর্চা ছাড়াও করেছেন সাংবাদিকতা।

বাবা অবিনাশ চন্দ্র বনিক সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে সকলের কাছে অতি পরিচিত। আর মা সাধনা রানী বনিক গৃহিণী। দু’ভাই পাঁচ বোনের মধ্যে সবার ছোট বিলাস। তার পিসিমা ছাড়াও প্রায় সব বোনেরা গান করতেন।

জন্মের পর থেকে গান বাজনা শুনতে শুনতেই তার বড় হওয়া। বাড়িতে ওস্তাদ আসতেন তালিম দিতেন। শুদ্ধ সঙ্গীতের চর্চা হতো। তাই সুর তালের প্রতি ছোট বেলা থেকেই ছিল তার বিশেষ অনুরাগ। সঙ্গীতের প্রতি দুর্বলতা এবং ভালবাসার সাথে বাবার অনুপ্রেরণা আর বোনদের আগ্রহে যন্ত্রসঙ্গীতের দিকে ঝুঁকেন তিনি।

নিজ জেলা কিশোরগঞ্জের শিল্পীমহলে সদা হাস্যোজ্জল হিসেবে সকলের কাছেই বিলাস এক প্রিয়মুখ। স্বভাবসুলভ বিনয় আর ভদ্র ব্যবহারের মাধ্যমে তিনি সবার মন জয় করে নিয়েছেন। বিশেষ করে ওস্তাদ বিনয় কর, তপন বসাক, এটিএম মোস্তফা, প্রমোদ চক্রবর্তী নলু, নন্দন বনিক, কনক বিশ্বাসের কাছ থেকে পেয়েছেন সর্বোচ্চ সহযোগিতা ও অনুপ্রেরণা।

নিরলস পরিশ্রমের মাধ্যমে তিনি জাতীয় পর্যায়ে অবস্থান করে নেয়ার অবিরাম চেষ্টা করে চলেছেন। জাতীয় পর্যায়ের অনেক বিশিষ্ট কন্ঠশিল্পীর সাথে বাজানোর সুবাদে একজন ভালো অক্টোপ্যাড বাদক হিসেবে ইতোমধ্যে তিনি নিজের মেধা ও যোগ্যতার পরিচয় তুলে ধরতে সমর্থ হয়েছেন।

সম্ভাবনাময় এই যন্ত্রসঙ্গীত শিল্পী দেশের বাইরে ভারতে একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেও অংশ নিয়ে বিশেষ দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। সক্রিয়ভাবে বিভিন্ন সংগীত প্রজেক্ট ও মিউজিক প্রোডাকশনের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। বর্তমানে তিনি দেশের লাইভ মিউজিক পারফরম্যান্সে একজন পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেছেন।

বিলাস বহু মঞ্চ পরিবেশনা ও টেলিভিশন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেছেন। তিনি বাংলাদেশ মিউজিশিয়ানস ফাউন্ডেশন (BMF)-এর সদস্য। বাংলাদেশি যন্ত্রসংগীতকে আন্তর্জাতিক পরিসরে তুলে ধরার লক্ষ্যে তিনি নিষ্ঠা ও ভালোবাসা নিয়ে কাজ করে চলেছেন, যেন বিশ্ব সংগীত সমাজের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করে পারকাশন শিল্পে অর্থবহ অবদান রাখতে পারেন।

সকলের আশির্বাদ এবং সহযোগিতা পেলে নিজেকে একজন ভালো রিদমার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারবেন, এমন আত্মবিশ্বাস রয়েছে বিলাস চন্দ্র বনিকের। সেই স্বপ্নপূরণের পথেই হাঁটছেন প্রতিভাবান এই তরুণ।

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
© All rights reserved © 2025 kishoreganjnews
Customized By Ayaz Host