স্টাফ রিপোর্টার: বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম এমপি বলেছেন, খাল খনন কোনো নিছক কর্মসূচি নয় বা লোক দেখানোর উদ্যোগও নয়। নদী-বিলের সঙ্গে সংযোগ রেখে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করা হবে। প্রকৃত অর্থে খাল খননের মাধ্যমে এলাকার মানুষের কৃষিকাজ, মৎস্যসম্পদ এবং খাদ্য উৎপাদনে সহায়ক পরিবেশ তৈরি করাই আমাদের লক্ষ্য।
সোমবার (১৬ মার্চ) দুপুরে কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলার আড়িবিল খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
মো. শরীফুল আলম বলেন, অনেক জায়গায় খালের জমি সরকারি হলেও পানি না থাকায় স্থানীয় কৃষকরা সেখানে সাময়িকভাবে ফসল ফলান। তবে খাল খননের সময় কৃষকদের স্বার্থ যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেদিকেও সরকার গুরুত্ব দেবে।
দেশের ৫৪টি জেলায় খাল খনন কর্মসূচির অংশ হিসেবে নিকলী উপজেলায় খাল খনন উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম। নিকলী মুক্তিযোদ্ধা আদর্শ সরকারি কলেজ মাঠে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও নিকলী উপজেলা প্রশাসন এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
এতে অন্যদের মধ্যে কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম, কিশোরগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল, কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য এডভোকেট জালাল উদ্দিন, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আসলাম মোল্লা, পুলিশ সুপার ড. এস এম ফরহাদ হোসেন, বিএনপি নেতা সৈয়দ এহসানুল হুদা, নিকলী উপজেলা বিএনপির সভাপতি বদরুল মোমেন মিঠু প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার বলরামপুরের সাহাপাড়া থেকে সারাদেশে খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন প্রজেক্টরের মাধ্যমে দেখানো হয়।
অনুষ্ঠান শেষে মাঠের পাশে আড়িবিল খালে কোদাল দিয়ে নিজ হাতে মাটি কেটে নিকলী উপজেলার খাল খনন কাজের উদ্বোধন করেন প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম।
খাল খনন ঘিরে এ সময় স্থানীয় মানুষ ও নেতাকর্মীদের মধ্যে আনন্দ ও উচ্ছ্বাস দেখা যায়। প্রাথমিকভাবে নিকলী আড়িবিল খালের ৬০০ মিটার অংশ খননের মাধ্যমে প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে জেলার অন্যান্য এলাকাতেও এ কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
প্রধান অতিথির বক্তৃতায় প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম বলেন, এদেশে কত সরকার গেছে, কত মন্ত্রী এমপি গেছে, গ্রামের প্রান্তিক খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষের জন্য, কৃষক শ্রমিক রিকশাচালক ও অটোচালকের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে জনবান্ধব কর্মসূচি নিতে আমরা দেখিনি। আজ যদি আমরা গ্রামীণ অবকাঠামো ও অর্থনীতিকে মজবুত করতে না পারি, আমরা যদি তাদের পাশে না দাঁড়াই, বাংলাদেশের উন্নয়ন বলতে আমরা যেটা বলি সেটা কাগজে-কলমেই থেকে যাবে। গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়ন ছাড়া প্রকৃতপক্ষে দেশ এগোবে না।
শরীফুল আলম বলেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান সরকার গ্রামের মানুষের জন্য একটার পর একটা যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিচ্ছেন। এর মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড অন্যতম। গ্রাম থেকেই এই ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ শুরু হয়েছে। দেশের বিভিন্ন উপজেলায় পাইলট প্রকল্প চালু হয়েছে। কিশোরগঞ্জের ভৈরবে শিমুলকান্দি ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে এক হাজার দশটি পরিবারে প্রাথমিকভাবে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে কৃষক কার্ডও চালু করা হবে। খাল খনন কর্মসূচিও গ্রামের মানুষের উন্নয়নের জন্য।