বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬, ১০:৫৫ অপরাহ্ন

পবিত্র মাহে রমজানের ফজিলত

  • আপডেট সময় : বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ১০০ বার দেখা হয়েছে

হাফেজ মাওলানা যুবায়ের আহমাদ: বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মুমিনের হৃদয় প্রহর গুনছিল রমজানের এক ফাঁলি চাঁদের। প্রতিক্ষার অবসান হলো। ক্ষমার অবারিত সুযোগ নিয়ে আবারো সমহিমায় হাজির হয়েছে পবিত্র রমজান। আমরা পেয়েছি ইবাদতের আরেক বসন্ত। আলহামদুলিল্লাহ! রমজান যেমন ইসলামী সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ তেমনি আমাদের বাঙ্গালি সংস্কৃতিরও অবিচ্ছেদ্য অংশ।

হাজার বছর ধরে এ অঞ্চলে রমজানে মানুষের ঘম ভাঙ্গে সাহরির ডাকে। প্রথম রমজানে অঞ্চলের কোটি কোটি মানুষ একসঙ্গে মসজিদে প্রবেশ করে আল্লাহর কাছে নিজেদের অর্পন করে। কোটি মানুষের এমন অংশগ্রহণ অন্য কোনো উপলক্ষ্যে সাধারণত চোখে পড়ে না।

ইফতারও বাঙ্গালির সংস্কৃতির বড় এক অনুসঙ্গ। কোটি কোটি মানুষ একসঙ্গে ইফতার নিয়ে বসেন। সবাই অপেক্ষা করেন মুআজ্জিনের ঘোষণার। মুআজ্জিনের ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয় ইফতার গ্রহণ। এ-ই আমাদের দেশের চিত্র। কোটি কোটি মানুষ হাজার বছর ধরে যে সংস্কৃতিকে লালন করে এসেছে, তা-ই তো এদেশের হাজার বছরের ঐতিহ্য।

আরবি (চন্দ্র) মাসসমূহের নমব মাস রমজান। এ মাসটিই বছরের সর্বশ্রেষ্ঠ মাস। পবিত্র কোরআন ও হাদিসে এ মাসের বিভিন্ন ফজিলত বর্ণিত হয়েছে। রমজান শুরু হলেই জান্নাতের দরজাসমূহ খুলে দেওয়া হয় এবং জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘রমজান মাস শুরু হলেই জান্নাতের দরজাসমূহ খুলে দেওয়া হয়, জাহান্নামের দরজাসমূহ বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং শয়তানদের আবদ্ধ করা হয়।’ সহিহ মুসলিম। অন্য হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, রমজানের প্রথম রাত যখন আসে তখন শয়তান ও অসৎ জিনগুলোকে বন্দি করা হয়। জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়, এ মাসে আর তা খোলা হয় না। জান্নাতের দরজাসমূহ খুলে দেওয়া হয়, এ মাসে তা আর বন্ধ করা হয় না। প্রত্যেক রাতে একজন ঘোষণাকারী এ বলে ঘোষণা করেন, ‘হে সৎকর্মপরায়ন, অগ্রসর হও! আর হে পাপাচারি, নিবৃত্ত হও!’ তিরমিজি।

পবিত্র এ মাসের ফজিলত বর্ণনায় আরেকটি হাদিস খুবই গুরত্বপুর্ণ্ হজরত সালমান ফারসি (রা.) বলেন, একবার শাবান মাসের শেষ দিন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের সম্বেধন করে এক গুরত্বপূর্ণ খুতবা (বক্তব্য) দিলেন। তিনি বললেন, ‘তোমাদের ওপর এক মহান ওব রকতপূর্ণ মাস ছায়া বিস্তার করছে। এ মাসে এমন এক রাত রয়েছে যা হাজার মাসের চেয়ে উত্তম। আল্লাহ তায়ালা এ মাসে রোজা রাখা ফরজ করেছেন আর রাতে কিয়াম (তারাবি নামাজে দাঁড়িয়ে যাওয়া) করেছেন ঐচ্ছিক। যে ব্যক্তি এ মাসে কোনো রোজাদারকে ইফতার করাবে, এর দ্বারা তার পাপ ক্ষমা কওে দেওয়া হবে, তাকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেওয়া হবে আর রোজাদারের সমপরিমাণ নেকি তাকে প্রদান করা হবে অথচ রোজাদারের প্রাপ্য নেকি একটুও কমানো হবে না।….’ বায়হাকি।

রমজান ক্ষমার মাস। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘ওই ব্যক্তির নাক ধুলায় মলিন হোক, যার কাছে রমজান মাস এসেছে অথচ তার গুনাহ ক্ষমা করা হয়নি। তিরমিজি। দোয়া কবুলের মাস। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, রমজানে প্রত্যেক মুসলিমের দোয়া কবুল করা হয়।

অন্য হাদিসে এসেছে, আল্লাহ তায়ালা রমজানের প্রতি রাতে ও দিনে বহু মানুষকে (জাহান্নাম থেকে) মুক্তি দেন এবং প্রতি রাত-দিনে মুসলিমের দোয়া কবুল করা হয়। সহিহুত তারগিব। আল্লাহ আমাদের রমজানের সব আমল যথযথভাবে পূর্ণ করে আল্লাহ তায়ালার দয়া, অনুগ্রহ ও ক্ষমা পেয়ে ধন্য হওয়ার তাওফিক দিন!

(লেখক: জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত কারি, মুফাসসিরে কোরআন; ডেইলি সান, কালের কণ্ঠ ও বাংলাদেশ প্রতিদিনসহ বিভিন্ন বাংলা ও ইংরেজি জাতীয় দৈনিকের নিয়মিত কলামিস্ট।)

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
© All rights reserved © 2025 kishoreganjnews
Customized By Ayaz Host