স্টাফ রিপোর্টার: বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের সদস্য সচিব সাদেক আহমেদ খান বলেছেন, সামনে নির্বাচন। সবাই ভোট কেন্দ্রে যাবেন। তিন টার্ম ভোট দিতে পারি নাই। সবাইকে বলবেন ভোট দেয়া নাগরিক কর্তব্য। শুধু একটা নির্দিষ্ট গোষ্ঠীকে ভোট দিবেন না। যারা স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছে আর যারা এখন দ্বিতীয় স্বাধীনতার কথা বলছে। কেউ কেউ ভিন্ন উদ্দেশ্য নিয়ে দ্বিতীয় স্বাধীনতার কথা বলে। ওদেরকে আমরা চিনি। যাকে পছন্দ হয় ভোট দিন; একমাত্র ৭১ এর পরাজিত শক্তি, যুদ্ধাপরাধী, স্বাধীনতাবিরোধীদের বাদ দিয়ে।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) বিকালে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কিশোরগঞ্জ জেলা ইউনিট কমান্ড আয়োজিত আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মুক্তিযোদ্ধা সংসদের করণীয় শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এতে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কিশোরগঞ্জ জেলা ইউনিট কমান্ডের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা মাহমুদুল ইসলাম জানু।
আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মো, নুরুল ইসলাম এবং বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ মানিকগঞ্জ জেলা ইউনিট কমান্ডের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মান্নান।
এতে জেলার ১৩টি উপজেলার তিন শতাধিক বীর মুক্তিযোদ্ধা উপস্থিত ছিলেন।
বীর মুক্তিযোদ্ধা সাদেক আহমেদ খান বলেন, ৭১ এ আমরা অস্ত্র দিয়ে অস্ত্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছি। ২৪ এ যে ছেলেগুলো জীবন দিলো ওরা কিন্তু অস্ত্র ছাড়াই বুক পেতে দিয়েছে। শত শত ছেলে জীবন দিয়েছে। শুধু ওরা না জুলাই যোদ্ধার ভাতা পায় ৭৩ হাজার। ওদের ৭৫% হকার, শ্রমিক, কৃষক। ছাত্র মাত্র ২৩%। বাকিরা বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। এটাই হলো প্রমাণ যে সব শ্রেণিপেশার মানুষ জুলাই আন্দোলনে যোগ দিয়েছিলো বলেই আমরা একটা অপশাসন থেকে মুক্তি পেলাম। যেখানে আমার আপনার কথা বলার অধিকার ছিলো না। গুম খুন নির্যাতন ছিলো নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার। শত শত ছেলে গুম হয়েছে। হাজার হাজার পিতামাতার বুক খালি করেছে এই হাসিনা। যার কারণে আল্লার বিধান সে বিতাড়িত হয়েছে।
সাদেক আহমেদ খান আরো বলেন, আমরা যারা মুক্তিযোদ্ধা তারা আওয়ামী লীগ করতে পারেন এটা দোষের কাজ না। আওয়ামী লীগ করে যদি অপরাধ না করে থাকেন, মানুষের ওপর নির্যাতন না করে থাকেন, ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদেরকে যদি মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় না ঢুকিয়ে থাকেন। বুক ফুলিয়ে আসেন আমরা একসাথে কাজ করি।
সাদেক আহমেদ খান বলেন, শেখ মুজিবকে ভালোবাসা অন্যায় না। যেমন অন্যায় না জিয়াউর রহমান বীর উত্তমকে ভালোবাসা। আমরা এই দুই মহান নেতাকে নিয়ে বিপদে পড়তে চাই না। উনারা চলে গেছেন আর কোনো দিন আসবে না। কেন এই দুইজনকে নিয়ে রাজনৈতিক মতলবের কারণে বিতর্ক করেন? জিয়াউর রহমান মারা গেছেন একটা পয়সা ছিলো না ব্যাগে। একজন সৎ মানুষ ছিলেন। জীবনে শেখ মুজিবকে নিয়ে একটা কথাও বলে নাই। শেখ মুজিবুর রহমান যখন বেঁচে ছিলেন জিয়াউর রহমানকে নিয়েও একটা কথা বলে নাই।
বীর মুক্তিযোদ্ধা সাদেক খান বলেন, জিয়াউর রহমানের ঘোষণার কারণেই তখন দেশের ৫টা ক্যান্টনমেন্টের বাঙালি সেনা কর্মকর্তা ও সদস্যরা বিদ্রোহ করে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করে। মুক্তিযোদ্ধারা সত্য কথাটা বলেন। কোমড়টা সোজা করে দাঁড়ান। আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকি। আমি বিশ্বাস করি আপনাদের সম্মান আমরা পুনরুদ্ধার করতে পারবো।