বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৩:১৭ পূর্বাহ্ন

মৃত্তিকা’র উদ্যোগে বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসাসেবা পেলেন ৩৭৩ জন দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত রোগী

  • আপডেট সময় : বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ২৭৫ বার দেখা হয়েছে

স্টাফ রিপোর্টার: কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলার পিরিজপুর ইউনিয়নের বিলপাড়-ডুয়াইগাঁও এলাকায় বৃহস্পতিবারের (১৫ জানুয়ারি) সকালটা ছিলো অন্যরকম। ভোরের আলো ফোটার আগেই মৃত্তিকা প্রতিবন্ধী শিশুপাঠশালার মাঠে সারি সারি প্লাস্টিকের চেয়ারে বসে অপেক্ষা করছিলেন শত শত মানুষ।

কারও চোখে দীর্ঘদিনের অন্ধকার, কারও চোখে নতুন করে আলো ফিরে পাওয়ার আকুতি। পাশে দাঁড়িয়ে একটি ভ্রাম্যমাণ মোবাইল আই হসপিটাল- যেন প্রত্যন্ত গ্রামের মাঝেই একটি আধুনিক চিকিৎসাকেন্দ্র।

এই মানবিক উদ্যোগের আয়োজক মৃত্তিকা প্রতিবন্ধী ফাউন্ডেশন, জাহানারা ও লতিফুর রহমান চ্যারিটেবল ট্রাস্ট (জেএলআরট্রাস্ট) এবং মোবাইল আই হসপিটাল।

বুধবার (১৪ জানুয়ারি) প্রথমদিনের কর্মসূচিতে কিশোরগঞ্জ জেলার পাঁচটি উপজেলা থেকে আসা ৩৭৩ জন দরিদ্র, প্রতিবন্ধী ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে চক্ষু পরীক্ষা, চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ সেবা পান। চিকিৎসা শেষে ৫০ জনের বেশি রোগীকে তাৎক্ষণিকভাবে চক্ষু অপারেশনের জন্য নির্বাচিত করা হয়।

প্রতিটি রোগীর অপারেশন, লেন্স সংযোজন, ওষুধ ও আনুষঙ্গিক ব্যয়সহ খরচ হয়েছে প্রায় ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা। অথচ একজন রোগীকেও একটি টাকাও দিতে হয়নি। দরিদ্র মানুষের জন্য যা ছিল কল্পনারও বাইরে- তা আজ বাস্তবে রূপ নিয়েছে মানবিক সহায়তায়।

বিলপাড় গ্রামের ষাটোর্ধ্ব এক বৃদ্ধ অপারেশনের পর আকাশের দিকে তাকিয়ে আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বললেন, “ভাবতাম জীবনের শেষ সময়টা অন্ধকারেই কাটবে। আজ আবার আলো দেখলাম।”

এই একটি বাক্যই যেন পুরো আয়োজনের সার্থকতা প্রকাশ করে। এই কর্মসূচি শুধু চিকিৎসাসেবা নয়; এটি সামাজিক দায়বদ্ধতার অনন্য দৃষ্টান্ত।

দীর্ঘদিন ধরে মৃত্তিকা প্রতিবন্ধী ফাউন্ডেশন প্রতিবন্ধী শিশুদের শিক্ষা, পুনর্বাসন ও মানবিক উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। মৃত্তিকা প্রতিবন্ধী শিশু পাঠশালা ইতোমধ্যে এই অঞ্চলে একটি অনুকরণীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।

বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসাসেবা উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মৃত্তিকা প্রতিবন্ধী শিশু পাঠশালার প্রধান শিক্ষক নূরে হায়াত আফসানা। এতে জেএলআরট্রাস্ট-এর ট্রাস্ট্রি সেলিনা মোস্তফা, সোনিয়া রহমান, মৃত্তিকা প্রতিবন্ধী ফাউন্ডেশনের ভাইসচেয়ারম্যান মো. সোহেল রানা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

আয়োজকরা জানিয়েছেন, এই কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে চলমান থাকবে। প্রত্যন্ত জনপদের অসহায় মানুষের চোখে আলো ফেরানোর এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত হবে- এমন প্রত্যাশা সবার।

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
© All rights reserved © 2025 kishoreganjnews
Customized By Ayaz Host