বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:০৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
দাফনের চার মাস পর কবর থেকে তোলা হলো কিশোরী ছনিয়ার লাশ কিশোরগঞ্জে বিসিক শিল্প নগরীর নির্মাণাধীন গেইট ধসে রডমিস্ত্রীর মৃত্যু, আহত ৩ কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব নিলেন মিজানুর রহমান ভাস্করখিলা বিলের সংকটাপন্ন কৃষকদের পাশে এমপি মাজহারুল ইসলাম এবারও লোকসানে কৃষক, ধানের দাম নিয়ে হতাশা পাটকল পরিদর্শনে নরসিংদীতে যাচ্ছেন বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান এমপি’র ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে নিয়োগ পেলেন এনামুল মোল্লা করিমগঞ্জে ধান কাটতে গিয়ে বজ্রপাতে যুবক নিহত কিশোরগঞ্জে মাদকবিরোধী অভিযানে ইয়াবাসহ আটক যুবকের জেল-জরিমানা কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলামের ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে নিয়োগ পেলেন মোশারফ হোসেন

দাঁড়িয়াবান্ধা খেলা দেখতে হাজারো মানুষের উপচেপড়া ভিড়

  • আপডেট সময় : রবিবার, ২২ মার্চ, ২০২৬, ৮:৩৪ অপরাহ্ণ

স্টাফ রিপোর্টার: কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জে আশির দশকের গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্যবাহী জমজমাট দাঁড়িয়াবান্ধা খেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার (২২ মার্চ) বিকালে উপজেলার কাদিরজঙ্গল ইউনিয়নের খিরারচর বাজার সংলগ্ন মাঠে এ খেলা অনুষ্ঠিত হয়। বিলুপ্তপ্রায় এ খেলা দেখতে সমবেত হয় বিভিন্ন বয়সি হাজারো মানুষ।

কাদিরজঙ্গল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আরিফ উদ্দিন আহমেদ কনকের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপি’র সাবেক যুব বিষয়ক সম্পাদক ও করিমগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম ভিপি সুমন।

খেলার উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা যুব অধিকার পরিষদের সভাপতি সোহাগ মিয়া।

বড়চর যুব জাগরণ স্পোর্টিং ক্লাবের আয়োজনে এই খেলায় বড়চর ও খিরারচর গ্রামের খেলোয়াড়েরা দুভাগে বিভক্ত হয়ে হলুদ দল ও লাল দল নামে অংশগ্রহণ করে। এতে হলুদ দল ৯-৬ পয়েন্টের ব্যবধানে বিজয়ী হয়।

বিভিন্ন এলাকা থেকে নানা শ্রেণি-পেশার অসংখ্য মানুষ ঐতিহ্যবাহী এ খেলা উপভোগ করে। খেলা শুরু হলে আনন্দ উৎসবে মেতে উঠে উপস্থিত হাজারো দর্শক।

আয়োজক কমিটির সদস্য শিহাব উদ্দিন জানান, দাঁড়িয়াবান্ধা খেলাটি গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী খেলা। তবে এখন বিলুপ্তপ্রায়। এখনকার তরুণ প্রজন্মের কাছে এ খেলাকে পরিচিত করতে এবং ঈদ পরবর্তী আনন্দ উপভোগ করতে একসময়ের অতি পরিচিত গাঁও-গেরামের ঐতিহ্যবাহী দাঁড়িয়াবান্ধা খেলার আয়োজন করা হয়।

অন্য গ্রাম থেকে খেলা দেখতে আসা মনিরুজ্জামান ও রইছ উদ্দিন বলেন, একসময় গ্রামাঞ্চলের পথে-ঘাটে, মাঠে বা রাস্তার পাশে সব বয়সি মানুষ এই খেলায় মেতেছে। হৈ চৈ আর আনন্দ উৎসবে বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত চলত এই খেলা।

ওমর মাহমুদ ফারুক নামে এক দর্শক বলেন, এখন আর দেখা যায় না গাঁও-গেরামের ঐতিহ্যবাহী দাঁড়িয়াবান্ধা খেলা। কালের বিবর্তনে হারিয়ে যেতে বসেছে এই খেলাটি। আর তাই বর্তমান প্রজন্মের কাছে গ্রামাঞ্চলের পুরোনো সংস্কৃতি তুলে ধরে ফ্রি ফায়ার ও পাবজীর মতো ভয়ংকর সংস্কৃতির প্রভাব থেকে মুক্ত করতে ঐতিহ্যবাহী এই খেলার আয়োজন করা হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা আজিজুল ইসলাম বলেন, হারিয়ে যাওয়া খেলাকে আমরা বাঁচিয়ে রাখতে চাই। আর এই খেলার মধ্যে রয়েছে নির্মল আনন্দ। এখন অপসংস্কৃতি গ্রাস করছে যুবসমাজকে। তাদের প্রকৃত সংস্কৃতিতে ফিরিয়ে আনতেই এই গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী খেলার আয়োজন করা হয়।

প্রধান অতিথি সাইফুল ইসলাম ভিপি সুমন তার বক্তব্যে বলেন, এসব খেলা আজ কালের গর্ভে হারিয়ে যেতে বসেছে। আর তাই বর্তমান প্রজন্মের কাছে গ্রামাঞ্চলের পুরোনো খেলাধুলা তুলে ধরে ফ্রি ফায়ার ও পাবজীর মতো ভয়ংকর সংস্কৃতির প্রভাব থেকে মুক্ত করতে ঐতিহ্যবাহী গ্রামবাংলার খেলার বিকল্প নেই। সে ক্ষেত্রে আমাদের সবার এগিয়ে আসতে হবে। প্রতি বছর এ ধরনের খেলার আয়োজন করা উচিত।

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
© All rights reserved © 2025 kishoreganjnews
Customized By Ayaz Host