স্টাফ রিপোর্টার: কিশোরগঞ্জের নিকলীতে অবৈধ মোটরসাইকেল আটক করায় মোবাইল কোর্টের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগ ওঠেছে সাংবাদিক আলি জামশেদ (৫০) এর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় তাকে আটক করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
আলি জামশেদ দৈনিক কালবেলা পত্রিকার নিকলী উপজেলা প্রতিনিধি এবং দৈনিক নয়াদিগন্ত পত্রিকার বাজিতপুর সংবাদদাতা হিসেবে কাজ করেন। তিনি নিকলী উপজেলার জারইতলা ইউনিয়নের সাজনপুর গ্রামের মুসলিম মিয়ার ছেলে।
জানা গেছে, আলি জামশেদ সাজনপুর আঠারবাড়িয়া গোপিরায়ের বাজারের গরুর হাটের ইজারাদারও।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) দুপুরে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রতীক দত্তের নেতৃত্বে নিকলী হাসপাতাল মোড়ে মোবাইল কোর্ট চলার সময়ে ড্রাইভিং লাইসেন্স ও গাড়ির প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না থাকায় সাংবাদিক আলি জামশেদ এর মোটর সাইকেলটি আটক করা হয়।
এ সময় আলি জামশেদ মোটর সাইকেলটির কোনো কাগজপত্র দেখাতে ব্যর্থ হন। এ নিয়ে তিনি মোবাইল কোর্টের বিচারক উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রতীক দত্তের সঙ্গে অসদাচরণ করেন বলে অভিযোগ ওঠে।
এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এতে দেখা যায়, সাংবাদিক আলি জামশেদ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রতীক দত্ত ‘অপরাধ’ করেছেন বলে তার আনুষ্ঠানিক বক্তব্য চাইছেন। তখন ম্যাজিস্ট্রেটকে বলতে শোনা যায়, বক্তব্য নিলে আমার অফিসে যাবেন। তার আগে আপনার গাড়ির কাগজপত্র ও ড্রাইভিং লাইসেন্স দেখান।
এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রতীক দত্ত জানান, রেজিস্ট্রেশনবিহীন একটি মোটরসাইকেল আটক করা হয়। চালক আলি জামশেদের কাছে ড্রাইভিং লাইসেন্স চাইলে তিনি তা দেখাতে পারেননি এবং আমার সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন। পরে তিনি তার এলাকার লোকজনকে এনে হুমকি-ধামকি দিতে থাকেন।
তিনি বলেন, ঘটনাটি যেহেতু আমার সঙ্গে হয়েছে। তাছাড়া তিনি অপরাধ স্বীকার করেননি। তাই আমি তাঁকে কোনো শাস্তি না দিয়ে তাঁকে আটক করার নির্দেশ দিই। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রমে বাধা, ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে খারাপ ব্যবহারসহ আরো কিছু অভিযোগ এনে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কিশোরগঞ্জ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হয়।
এ ব্যাপারে নিকলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলামের সঙ্গে সন্ধ্যায় কথা হলে তিনি বলেন, ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্দেশে পুলিশ আলি জামশেদকে কিশোরগঞ্জ চিফ জুডিশিয়াল আদালতের কাছে হস্তান্তর করা হয়। আদালত তাঁকে জেল-হাজতে পাঠায়।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আলি জামশেদ সাংবাদিক হলেও তিনি এলাকার সবচেয়ে বড় গরুর হাটের ইজারাদার। প্রতি বুধবার গরুর হাটটি বসানো হয়।
অভিযোগ রয়েছে, হাটটি এতটাই বিস্তৃত যে, নির্ধারিত জায়গা ছাড়াও স্থানীয় একটি প্রাইমারি স্কুল এবং ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মাঠেও এটি ছড়িয়ে পড়ে।
সম্প্রতি সেখানে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে স্কুল ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জায়গা থেকে হাটটি সরিয়ে দেওয়া হয়। একইসঙ্গে ইজারাদার আলি জামশেদের কয়েকজন লোককে জরিমানা করা হয়।
এর আগে এসিল্যান্ড ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রতীক দত্তের বিরুদ্ধে সাংবাদিক আলি জামশেদ বিভিন্ন গণমাধ্যমে বেশ কয়েকটি সংবাদ প্রকাশ করেন। এ নিয়ে উভয়ের মধ্যে স্নায়ুযুদ্ধ ও বিরোধ চলে আসছিলো।
এর ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার-ও (১২ মার্চ) এসিল্যান্ড প্রতীক দত্তের বিরুদ্ধে দৈনিক নয়াদিগন্তে আলি জামশেদ এর একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। এই সংবাদ প্রকাশের রেশ কাটতে না কাটতেই প্রতীক দত্তের মোবাইল কোর্টে সাংবাদিক আলি জামশেদ আটক হন।