বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬, ১১:৫০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
অলওয়েদার সড়কে পিকআপ-মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে স্বামী-স্ত্রী ও একমাত্র সন্তান নিহত কিশোরগঞ্জে জুলাই শহীদদের পরিবারে জামায়াতে ইসলামীর ঈদ উপহার অষ্টগ্রামে ভাঙনকবলিত গ্রাম ও সড়ক রক্ষায় এমপি ফজলুর রহমানের উদ্যোগে ড্রেজিং শুরু ধনু নদীতে পড়ে শিশু নিখোঁজ অষ্টগ্রামে বজ্রপাতে মারা গেলেন স্বামী, স্ত্রী-ও আহত রাশিয়ায় ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় করিমগঞ্জের যুবক নিহত, পরিবারে মাতম শিশু রামিসাসহ সকল ধর্ষণ ও হত্যার বিচারের দাবিতে কিশোরগঞ্জে বিক্ষোভ মিছিল প্রাথমিক শিক্ষা পদক প্রতিযোগিতায় কিশোরগঞ্জ সদরে রবীন্দ্রসঙ্গীতে প্রথম হয়েছে সামিহা তাবাসসুম দুর্নীতি প্রতিরোধে করণীয় বিষয়ে কিশোরগঞ্জে দুদকের প্রশিক্ষণ কর্মশালা স্বাস্থ্যসেবায় নিরাপদ কর্মস্থল নিশ্চিত করার দাবিতে কিশোরগঞ্জে ড্যাবের মানববন্ধন

হিজল বনে ঘেরা ‘দিল্লির আখড়া’

  • আপডেট সময় : বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:১১ অপরাহ্ণ

বিশেষ প্রতিনিধি: কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলার কাটখাল ইউনিয়নে হিজল বনে ঘেরা এক মনোরম স্থান ‘দিল্লির আখড়া’। বর্ষায় দর্শনার্থীদের এক প্রিয় গন্তব্য এই ‘দিল্লির আখড়া’। হাওরের পানিতে জেগে থাকা শত শত হিজল গাছ এখানকার অন্যতম আকর্ষণ।

চারশো বছরের পুরনো এই আখড়া সম্পর্কে সুন্দর একটি গল্প আছে। এক সাধক নাকি এখানে এসেছিলেন ধ্যান করতে। তার ধ্যান ভাঙার জন্য কিছু দৈত্য তাকে নানাভাবে বিরক্ত করতো। একদিন এই সাধক মহাবিরক্ত হয়ে তার দীক্ষাগুরুর মন্ত্রবলে এই দৈত্যগুলোকে হিজল গাছ বানিয়ে রাখেন।

সাধুর বানিয়ে রাখা সেই হিজল গাছগুলো এখনও দাঁড়িয়ে আছে। হিজল গাছের সারি তিনশো একরের পুরো আখড়া এলাকা জুড়েই! শত শত হিজলগাছ! দেখলে ধারণা হতেই পারে, একসময় এগুলো সত্যি সত্যিই দৈত্য ছিলো! সারা বর্ষায় এগুলো মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকে।

জায়গাটির নাম দিল্লির আখড়া কিভাবে হলো? সে আরেক গল্প। দিল্লির সম্রাট জাহাঙ্গীরের লোকজন নাকি একদিন ওই ধ্যানমগ্ন সাধকের পাশ দিয়ে নৌকার বহর নিয়ে নদীপথে যাচ্ছিলেন।

এ সময় সোনার মোহর ভর্তি একটি নৌকা পানিতে ডুবে যায়। নৌকার যাত্রীরা মোহর তোলার জন্য নদীপাড়ে আসে। ডুব দিয়ে তারা দু-একটি মোহর তুলেও আনে।

কিন্তু সেই মোহরগুলোও চোখের ইশারায় পানিতে ফেলে দেন ওই সাধক। পরে নৌকার যাত্রীদের অনুরোধে তিনি সোনার মোহরগুলো মাছের ঝাঁকের মতো পানির উপর ভাসাতে থাকেন। মোহরগুলো তুলে নেন যাত্রীরা।

এই ঘটনা শুনে সম্রাট জাহাঙ্গীর অভিভূত হন। পরে তিনশ’ একর জমি তাম্রলিপির মাধ্যমে সেই সাধুর আখড়ার নামে দান করে দেন। সেই থেকে এটি দিল্লির আখড়া।

হিজলের বন ভেদ করে একবার আখড়ায় পৌঁছতে পারলেই দেখা যাবে সেই সাধুর স্মৃতি। আখড়ার নির্জনতায় আপনারও মনে হবে, সত্যি এটি ধ্যান করার মতো চমৎকার একটি স্থান বটে।

আখড়ায় রয়েছে ধর্মশালা, নাটমন্দির, অতিথিশালা, পাকশালা ও বৈষ্ণবদেব থাকার ঘর। বর্তমানে আখড়ায় সেবায়েত হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন অনন্ত দাস মোহন্ত গোসাঁই। এখানে আশ্রিত হয়ে আছে ৪০-৫০ জন শ্রমজীবী মানুষ। সবাই নিরামিষভোজি। থাকে একটি যৌথ পরিবারের মতো।

রাতে এখানে দর্শনার্থীদের থাকারও ব্যবস্থা আছে। আখড়ার পাশে রয়েছে ঘের দেয়া দুটি পুকুর। ইচ্ছে করলে পুকুরের ঘাটলায় বসে কাটিয়ে দেয়া যাবে চমৎকার একটা বিকেল।

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
© All rights reserved © 2025 kishoreganjnews
Customized By Ayaz Host