স্টাফ রিপোর্টার: কিশোরগঞ্জে চাঁদাবাজি মামলার জেরে মো. বাবুল মিয়া (৪০) নামে এক যুবদল নেতার হাত-পা ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিএনপি নেতা ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান শহীদুল ইসলাম শহীদের বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) দুপুরে সদর উপজেলার লতিবাবাদ ইউনিয়নের কাটাবাড়িয়া এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে।
আহত বাবুল মিয়া লতিবাবাদ ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক এবং ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য (মেম্বার) হাদিস মিয়ার ছেলে। তিনি বর্তমানে শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
এ ঘটনায় মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) রাতে আহতের বাবা হাদিস মিয়া বাদী হয়ে কিশোরগঞ্জ মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। এতে লতিবাবাদ ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও সদর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম শহীদসহ ৬ জনের নামাল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৫-৬ জনকে আসামি করা হয়েছে। অন্য অভিযুক্তরা হলেন- মো. কালাম (৩৫), মো. শাহীন (২৫), মো. শামীম মিয়া (২৫), মো. নাজমুল ও মো. আবু হান্নান (৩২)। তাঁরা সবাই লতিবাবাদ ইউনিয়নের বাসিন্দা।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, যুবদল নেতা বাবুল মিয়া কাটাবাড়িয়া এলাকায় আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের পাশে ‘নিঝুম রেস্তোরাঁ’ পরিচালনা করেন। সদর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও লতিবাবাদ ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান শহীদুল ইসলাম শহীদের নির্দেশে বিভিন্ন সময় আব্দুল হাকিম (৩২) নামে এক তরুণ বাবুল মিয়ার কাছ থেকে চাঁদা দাবি করতো।
চাঁদা না দেওয়ায় বাবুলের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান হাকিম ভাঙচুর করে এবং জোরপূর্বক টাকা নিয়ে যায়। পরে গত ২৮ জানুয়ারি কিশোরগঞ্জ মডেল থানায় দ্রুত বিচার আইনে মামলা করার পর হাকিম বর্তমানে কারাগারে রয়েছে।
মামলার জেরে ক্ষিপ্ত হয়ে মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) দুপুর ১২টার দিকে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে অভিযুক্তরা রেস্তোরাঁয় হামলা চালায়। তারা বাবুল মিয়াকে টেনেহিঁচড়ে পাশের একটি পরিত্যক্ত রাইস মিলের ভেতরে নিয়ে যায়। সেখানে হত্যার উদ্দেশ্যে রামদা ও লোহার রড দিয়ে বাবুলের দুই হাত ও দুই পা লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি কোপানো হয়। এতে তাঁর হাড় ভেঙে যায় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়।
পরে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে আসলে হামলাকারীরা মামলা তুলে নেওয়ার হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। মুমূর্ষু অবস্থায় বাবুলকে উদ্ধার করে প্রথমে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
চিকিৎসাধীন যুবদল নেতা বাবুল মিয়া বলেন, শহীদ চেয়ারম্যান কথা বলবে বলে আমাকে ডেকে নিয়ে একটি মোড়ে আটকায়। সেখানে শহীদ চেয়ারম্যানের নির্দেশে ও উপস্থিতিতে ২০-২৫ জন মিলে আমাকে লাঠি ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে মারধর করে।
পাসপোর্ট অফিসের সামনে তারা ২০-২৫ জন মিলে চাঁদাবাজি ও এলাকা নিয়ন্ত্রণ করে। কিছুদিন আগে তারা আমার দোকান থেকে টাকা নিয়ে যায়। ওই ঘটনায় আমি থানায় মামলা করায় তারা ক্ষিপ্ত হয়ে আমার ওপর এই হামলা চালিয়েছে। তারা প্রতিটি দোকানদার থেকেই নিয়মিত চাঁদা নেয়।
এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও লতিবাবাদ ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান শহীদুল ইসলাম শহীদ সাংবাদিকদের বলেন, বাবুল মিয়ার সঙ্গে আমার কোনো বিষয়ে কোনো বিরোধ নেই। এমনকি আমরা কোনোদিন এক টেবিলে বসে চা-ও খাইনি। তাই এ ঘটনায় আমাকে জড়ানো দূরভিসন্ধিমূলক।
এ ব্যাপারে কিশোরগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম ভূইয়া বলেন, অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।