দক্ষিণ কোরিয়ার একটি সাধারণ আবাসিক এলাকার ভেতর অত্যন্ত গোপনে একটি অত্যাধুনিক সিন্থেটিক ড্রাগ তৈরির ল্যাব বা কারখানা পরিচালনা করার অভিযোগে তিন ভিয়েতনামি নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির পুলিশ। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধান সংবাদমাধ্যম এমবিসি (MBC) সহ অন্যান্য মাধ্যমগুলোতে গত ১৭ ও ১৮ই মার্চ ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে 경상북도 প্রদেশে একটি ভিলার ভেতর।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, গ্রেপ্তারকৃত এই তিন ভিয়েতনামি তরুণের মাদক তৈরির বিষয়ে বিশেষ কোনো প্রাতিষ্ঠানিক বা প্রথাগত জ্ঞান ছিল না। সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হলো, তারা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্পন্ন চ্যাটবট চ্যাটজিপিটি এবং ইন্টারনেটের সাহায্য নিয়ে ল্যাবে সফলভাবে ড্রাগ প্রস্তুত করার পদ্ধতি রপ্ত করেছিল। তদন্তে বেরিয়ে এসেছে যে, এই চক্রটি ইউটিউব এবং ডার্ক ওয়েব ব্যবহার করে ড্রাগ তৈরির প্রয়োজনীয় কাঁচামাল সংগ্রহ এবং জটিল রাসায়নিক বিক্রিয়ার পদ্ধতি শিখেছিল। তারা আবাসিক এলাকার ভেতর ল্যাবটি এতটাই নিখুঁতভাবে সাজিয়েছিল যে, স্থানীয় বাসিন্দারা বুঝতেই পারেনি সেখানে উচ্চমাত্রার সিন্থেটিক ড্রাগ তৈরি হচ্ছে।
ইনছন বিমানবন্দর কাস্টমস গত বছরের আগস্টে থাইল্যান্ড থেকে আসা একটি সন্দেহজনক পার্সেলের সূত্র ধরে দীর্ঘ তদন্ত চালিয়ে এই চক্রটিকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। গ্রেপ্তারের সময় তাদের কাছ থেকে প্রায় ৫.৪ কেজি এক্সটাসি তৈরির কাঁচামাল জব্দ করা হয়েছে, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৮৮ কোটি উওন। এই বিপুল পরিমাণ মাদক তৈরির কাঁচামাল উদ্ধার দক্ষিণ কোরিয়ার মাদকবিরোধী অভিযানে একটি বড় সফলতা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এই ঘটনার পর দক্ষিণ কোরিয়ার কর্তৃপক্ষ আবাসিক এলাকাগুলোতে নজরদারি এবং বিদেশি নাগরিকদের ভিসা স্ক্রিনিং ও যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া আরও জোরদার করার ঘোষণা দিয়েছে। এই ঘটনাটি কোরিয়ায় বসবাসরত বিশাল প্রবাসী কমিউনিটির জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা। কোরিয়ায় অবস্থানরত সকল প্রবাসীর উচিত এই ধরণের অবৈধ কর্মকাণ্ড থেকে দূরে থাকা এবং কঠোরভাবে আইন মেনে চলে নিজ দেশের ভাবমূর্তি বজায় রাখা। সামান্য ভুলের কারণে বা লোভের বশবর্তী হয়ে এমন অপরাধে জড়ালে আজীবনের জন্য কোরিয়ায় প্রবেশের পথ বন্ধ হয়ে যেতে পারে।