স্টাফ রিপোর্টার: কিশোরগঞ্জের নিকলীতে সেলাই মেশিন মেরামতের টাকা চাওয়ায় মো. মোবারক হোসেন (৪৬) নামে এক সেলাই মেশিন ও গ্যাসের চুলার কারিগরকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করার ঘটনা ঘটেছে। মৃত ভেবে তাকে দোকানে ফেলে যাওয়ার সময় হামলাকারীরা দোকানের জিনিসপত্র ব্যাপক ভাঙচুর ও নগদ টাকা লুট করে নিয়ে যায়।
গত বুধবার (২১ জানুয়ারি) দুপুরের এই ঘটনায় পরদিন ২২ জানুয়ারি নিকলী থানায় মামলার লিখিত এজাহার দায়ের করা হলেও অদ্যাবধি এ ব্যাপারে কোনো আইনী পদক্ষেপ নেয়নি পুলিশ। ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার কিংবা মামলা রেকর্ড কোনোটাই করেননি নিকলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম।
এ পরিস্থিতিতে সংবাদ সম্মেলন করে প্রতিকার দাবি করেছেন আহত মোবারক হোসেনের বড় ভাই মনির উদ্দিন।
রবিবার (২৫ জানুয়ারি) দুপুরে কিশোরগঞ্জ জেলা শহরের গৌরাঙ্গ বাজারে অনলাইন নিউজ পোর্টাল কিশোরগঞ্জ নিউজ কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলন করেন তিনি। আহত মোবারক হোসেন নিকলী উপজেলার মজলিশপুর বড়হাটি গ্রামের মৃত সিরাজ উদ্দিনের ছেলে।
অন্যদিকে অভিযুক্তরা হচ্ছে, একই গ্রামের এরশাদ আলীর ছেলে মো. শাওন (৩০), মৃত আইক্কাবালীর ছেলে ছুরমান (৬০) ও শান্তিপুর গ্রামের আব্বাছ আলীর ছেলে এখলাছ উদ্দিন।
সংবাদ সম্মেলনে মনির উদ্দিন জানান, মজলিশপুর ভূঞা সুপার মার্কেটে তার ছোট ভাই মোবারকের সেলাই মেশিন ও গ্যাসের চুলা মেরামতের একটি দোকান আছে। শাওন প্রায়ই দোকান থেকে সেলাই মেশিনসহ জিনিসপত্র মেরামত করে নেয়। কিন্তু টাকা দেয় না।
গত বুধবার (২১ জানুয়ারি) সকালে শাওনের কাছে মোবারক তার পাওনা টাকা চাইতে গেলে উভয়ের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। এর জের ধরে সন্ধ্যার দিকে শাওন, ছুরমান ও এখলাছ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মোবারকের দোকানে ঢুকে তার উপর হামলা চালায়।
এ সময় মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে কুপিয়ে ও পিটিয়ে মোবারককে গুরুতর আহত করা হয়। এতে মোবারক ঘটনাস্থলে লুটিয়ে পড়লে তাকে মৃত ভেবে ফেলে রেখে যাওয়ার সময় দোকানের জিনিসপত্র ভাঙচুর করে এবং মোবারকের পকেটে থাকা ২৫ হাজার টাকা নিয়ে যায়।
স্থানীয়রা মোবারককে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে নিকলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। এখনো সেখানে সে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
এ ব্যাপারে নিকলী থানায় মামলার এজাহার দেওয়া হলেও নেওয়া হবে নেওয়া হবে বলে এখনো মামলা রেকর্ড করা হয়নি। এছাড়া ঘটনায় জড়িত কাউকেও গ্রেপ্তার করেনি পুলিশ।
এ ব্যাপারে নিকলী থানার ওসি রফিকুল ইসলাম বলেন, মামলা নেবো না- এটা আমি একবারও বলিনি। শীঘ্রই এ ব্যাপারে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।